এসএসসি-র নিয়োেগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলে বারাবনি বিধান সভার বেশ কিছু স্কুলের নাম উঠে এল

আসানসোল : – শেষ পর্যন্ত রক্ষা হলনা তাদের ,সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই রাজ্যে চাকরী হারালেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা।এর মধ্যে পশ্চিমবর্ধমান জেলার বারাবনি বিধানসভা এলাকার সালানপুর ও বারাবনি বাদ যায়নি।সেই রায়ে সারা রাজ্যের সাথে বারাবনী ও সালানপুর ব্লকের বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকার ওপর এই কোপ পড়ল।গৌরান্ডি আর কে এস ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয় এর ৪ জন,সালানপুর ব্লকের কস্তুরবা গান্ধী হিন্দি মিডিয়াম স্কুলের একজন, চিত্তরঞ্জন বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় এর দুইজন শিক্ষক এর নাম সামনে এসেছে।

প্রসঙ্গতঃ গত বছর এপ্রিল মাসে এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের সমস্ত নিয়োগ, অর্থাৎ ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি যায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। সেই রায়ই বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টে।

চাকরি হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। চাকরী হারানো গৌরান্ডি আর কে এস ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয় এর এক শিক্ষিকা অনামিকা চাকি বলেন, “আমাদের ভুলটা কোথায় ছিল। সমস্ত কিছু যাচাই করে তবেই চাকরীতে আমাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। আমাদের যে চাকরী চলে গেল এবার আমরা কি করবো?”

ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক ডক্টর তুষার ব্যানার্জি জানান,মহামান্য আদালতের রায় নিয়ে আমি কিছু বলছি না।তবে আমাদের স্কুলের ওপরে অনেকটা চাপ পড়ল।যেখানে ২৬০০ এর বেশি ছাত্র ছাত্রী রয়েছে,আর শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন ৩৯ জন এর মধ্যে চারজন শিক্ষক শিক্ষিকা হারালাম।যার ফলে স্কুলের অনকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বিশেষ করে.বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকার অভাব, পরীক্ষা চালানো অসম্ভ হবে ।খাতা দেখার টিচার পাবো না । উচ্চমাধ্যমিকের অনেকে খাতা দেখছেন.. আমাদের মতন হেড এক্সামিনার দের খুব অসুবিধা হয়ে গেল। সর্বোপরি ছাত্রছাত্রীরা যাদেরকে এতদিন ধরে পেল তাদের ক্লাস করলো .. আজ থেকে তারা আর নেই… ছাত্র-ছাত্রীরা দারুণভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।মহামান্য আদালতের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যারা নিয়োেগ দুর্নীতি করেছে এটা তাঁদের দোষ। তাঁদের না ধরে পুরো প্যানেলটাকেই বাতিল করে দেওয়া হল। যারা যোগ্য তাঁদের চাকরী ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *