অবশেষে জিতে নিজের বানানো বিধায়ক কার্যালয় পুনরায় হাসিল করে উদ্বোধন করলেন পাণ্ডবেশ্বর এর বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি

কাজল মিত্র : দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং লড়াইয়ের পর অবশেষে জিতে নিজের বানানো বিধায়ক কার্যালয় পুনরায় হাসিল করে উদ্বোধন করলেন পাণ্ডবেশ্বর এর বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি।তফাৎ শুধু প্রথমে বিধায়ক কার্যালয় তৈরি করার সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন বর্তমানে তিনি বিজেপির জয়ী বিধায়ক।বুধবার এই কার্যালয়ে উদ্বোধন কে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ তৈরি হয় পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার হরিপুরের ট্রেনিং সেন্টার এলাকা।

বলে রাখা প্রয়োজন, সালটা তখন ২০১৬। তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন জিতেন্দ্র কুমার তেওয়ারি। তারপর সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শোনা থেকে শুরু করে , বিধায়ক হিসেবে মানুষের মাঝে নানা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের হরিপুরের ট্রেনিং সেন্টার এলাকায় একটি বিধায়ক কার্যালয় নির্মাণ করেন তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। ঠিক তারপরই ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাণ্ডবেশ্বরের তৎকালীন বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি দল বদল করে বিজেপিতে যায়। বিজেপির হয়ে পাণ্ডবেশ্বর নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রার্থীর টিকিটও পাই।কিন্তু সেইবারের নির্বাচনে তাকে তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল।

পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক হিসেবে পাঁচ বছর শাসন করেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তবে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জয়ী হওয়ার পর ২০১৬ তে জিতেন্দ্র তেওয়ারির হাত ধরে তৈরি হওয়া বিধায়ক কার্যালয় টি জয়ী বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লোকজনেরা দখল করে পার্টির কার্যালয়ে পরিণত করেছিল। সেখান থেকেই বিগত পাঁচ বছর দলের নানা কাজকর্ম পরিচালনা হয়েছে বলেই জানা যায়। তবে এবারে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারি জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হতেই একসময় তৃণমূলে থাকাকালীন তার হাতে তৈরি হরিপুরের এই বিধায়ক কার্যালয় পুনরায় নতুনভাবে উদ্বোধন হলো এবং সেটি পার্টির কার্যালয়ের বদলে আবারো বিধায়ক কার্যালয়ের রুপ পেল।
বুধবার এই বিধায়ক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি কর্মীরা দেখিয়ে দিল পাণ্ডবেশ্বর এর মাটি থেকে লড়াই করে এই ভাবেও ফিরে আসা যায়।এই বিধায়ক কার্যালয় থেকে আগামী দিনে পাণ্ডবেশ্বর এর মানুষকে নানান পরিষেবা দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভায় দুটি বিধায়ক কার্যালয় থাকবে। একটি হরিপুরে এবং অন্যটি সরপি মোড়ে। একদিন হরিপুরে এবং আরেকদিন সরপিতে বিধায়ক কার্যালয়ে বসে সাধারণ মানুষের নানান সমস্যার কথা শোনা থেকে শুরু করে দল আমাকে যে যে দায়িত্ব দেবে বিধায়ক হিসেবে সেইসব দায়িত্ব পালন করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *