কাজল মিত্র : সালানপুর থানার অন্তর্গত সালানপুর গ্রামে নিমাই প্রামাণিকের বাড়িতে ২১ নভেম্বর রাত থেকেই তীব্র উত্তেজনা। রাত প্রায় ন’টা নাগাদ বাড়ির উঠোনে হঠাৎ দেখা যায় দুটি বড়সড় হায়না। পরিবারের সদস্যরা তাড়া করলে একটি কোনোমতে পালিয়ে গেলেও অন্যটি সোজা ঢুকে পড়ে বাড়ির পাশের ছোট ঘরটিতে—যেখানে আগে পোস্ট অফিস চালু ছিল এবং বর্তমানে জিনিসপত্র রাখার ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত দরজা বন্ধ করে ঘরটিকে আটকে দেয়।

সারারাত ধরে হায়নাটি খাটের তলায় লুকিয়ে থাকে। জানালা ও দরজা বন্ধ করে রাখা হয় নিরাপত্তার স্বার্থে। পরদিন সকালে খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের মানুষ ভিড় জমাতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পুলিশকে। এদিকে রূপনারায়ণপুর রেঞ্জ অফিসে খবর পৌঁছতেই বন দপ্তরের কর্মীরা খাঁচা, জাল ও সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যখন হায়নাটি বেরোয় না, তখন জানালা দিয়ে ছোট পটকা ফাটানো হয়। ঘর কাঁপানো সেই আওয়াজে ভয় পেয়ে হায়নাটি দ্রুত খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই পাতা খাঁচার ভেতরে ঢুকে পড়ে।

আসানসোল টেরিটোরিয়াল রেঞ্জ অফিসার বিশ্বজিৎ শিকদার জানান, বন বিভাগের সঙ্গে গ্রামবাসী, পুলিশ ও সমাজ সচেতন বহু মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করায় উদ্ধার অভিযান দ্রুত সফল হয়েছে। হায়নাটিকে বর্ধমান চিড়িয়াখানায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
