মাইথনে পিকনিক করতে গেলে রবিবার থেকেই লাগবে প্রবেশ মূল ,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পর্যটকরা?

কাজল মিত্র:- প্রতি বছরের মতই মাইথণে দুর দুর ভিড় জমায় পর্যটকেরা তবে মাইথনে পিকনিক করতে এলে দিতে হবে প্রবেশ মূল্য।তবে এই প্রবেশ মূল্য প্রতি বছরেরই নেওয়া হয় । মাইথন জলাধারের থার্ড ডাইক, ফায়ারিং রেঞ্জ,সিদাবাড়ি এবং সুলেমান পার্কের মত পিকনিক স্পট এ পিকনিক করতে এলে দিতে হবে এই পার্কিং ফি।ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই পিকনিকের মরশুমে মাইথন জলাধারে বহু দূরদূরান্ত থেকে পর্যটক ঘুরতে আসে চলে পরিবার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বনভোজন একই সাথে চলে পাহাড়ে ঘেরা নীল জলরাশির উপর নৌকা বিহার ।


কিন্তু পর্যটকরা অভিযোগ করেন প্রবেশ মূল্য নিলেও সেরকম ভাবে কোন সুবিধা পান না তারা ।
নেই পানীয় জলের ব্যাবস্থা,নেই তেমন শৌচাগার,নেই লাইট।তাছাড়া পিকনিক স্পট গুলি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নেই।পিকনিক স্পটে যেনো গরু ও কুকুরের তান্ডব।ব্লক প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে থার্মাকল ব্যাবহার করা যাবে না।কিন্তু পিকনিক স্পটে পড়ে রয়েছে থার্মাকলের পাতা-বাটি।এমনকি নৌকাবিহারে ব্যাবহার হচ্ছে না লাইফ জ্যাকেট, নেই পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি।তবে নৌকা চালকদের বক্তব্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণের লাইফ জ্যাকেট নেই।তবে লাইফ জ্যাকেট অর্ডার দেওয়া হয়েছে।মানুষ বলছে প্রবেশ মূল্যের নামে বড় বাস ২৫০,মিনি বাস ২০০ এবং চারচাকা১৫০,ও অটো/টোটো ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।তাছাড়াও পিকনিক স্পটে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার নামে নেওয়া হচ্ছে ৫০-১০০ টাকা?এক ব্যক্তি জানান মাইথনে রাস্তা দিয়ে পার করলেই দিতে হবে প্রবেশ মূল্য। পিকনিক করতে না গেলেও দিতে হচ্ছে প্রবেশ মূল্য।


এ ব্যাপারে সালানপুর ব্লক আধিকারিক দেবাঞ্জন বিশ্বাস জানান যে প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও পর্যটকদের জন্য কিছু নিয়ম তৈরি করা হয়েছে বিশেষ করে নৌকা চলার সময় লাইভ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে। ডিজে বাজানো বন্ধ, নেশা জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা চলবেনা, তাছাড়া থার্মোকল ব্যবহার করা চলবে না । একই সাথে পিকনিক স্পটটি যারা টেন্ডার নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও
বিশেষ কিছু নিয়মের ব্যবস্থা রেখে দেওয়া হয়েছে। যেমন এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ।
সাধারণ মানুষ যাতে কোন অসুবিধা না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করতে হবে।


এই ব্যাপারে পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র জানান যে এই মাইথন পর্যটনকেন্দ্র কে সাজানোর জন্য বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় প্রচেষ্টা করে চলেছে তবে ডিভিসির পক্ষ থেকে সেইরকম কোন অনুমতি না পাওয়ার কারণে সেরকম কোন কাজ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মাইথন থার্ড ডাইক থেকে সিধা বাড়ির দিকে যেরাস্তাটি গেছে সেই রাস্তাটি একেবারে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। গাড়ি চলাচল একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল পঞ্চায়েত সমিতি থেকে কিন্তু ডিভিসির তরফে কোন অনুমতি না পাওয়ায় রাস্তাটির কাজ করা যায়নি।
তবে পিকনিকের সময় যে টেন্ডার প্রক্রিয়া করা হয়েছে, সেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এলাকাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা নৌকা চালকদের লাইভ জ্যাকেট দেওয়া, লাইটের ব্যবস্থা করা, শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *