সংস্কারের পর দুর্গাপুর ব্যারেজ পরিদর্শনে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া

সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ মাসে দেড়েক ধরে দুর্গাপুর ব্যারেজের বহু পুরাতন সেতুটির বেহাল দশা সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। কাজ শুরুর সময় এখানে এসেছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। এবার সংস্কারের পর শুক্রবার দুর্গাপুর ব্যারেজ পরিদর্শনে আসেন সেচমন্ত্রী। পরিদর্শনে এসে তিনি বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, কেন্দ্র সরকারের যে দায়িত্ব রয়েছে তা পালন করছে না এবং রাজ্যের হকের টাকা কেন্দ্র সরকার দিচ্ছে না। তাই ড্রেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্য ও ডিভিসির মধ্যে বারবার জল ছাড়া নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দেয় তা নিয়ে কোন মন্তব্য না করে সেচমন্ত্রী বলেন,এই মুহুর্তে বিতর্কে যাবো না। ৪৫ দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়েছে। মাঝে ছয় দিন প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল বলে কাজে কিছু অসুবিধা দেখা দিয়েছিল। তবু কাজ ৪৫ দিনের মধ্যেই শেষ করা গিয়েছে। হায়দ্রাবাদ থেকে রাবার সিল আসছে তা দিয়ে কাজ করা হবে।

শুক্রবার ৪১ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে সেচ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন। বর্ষা এসে গিয়েছে। ফলে বাকি যেসব কাজ রয়েছে তা বর্ষার পরেই শুরু হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের সরকারের ইচ্ছাকৃত বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সেচমন্ত্রী বলেন,দেড় মাস দুর্গাপুর ব্যারাজে জল ধরে রাখা হয়। এরপরে দুর্গাপুর, মাইথন ও পাঞ্চেত নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে এবং মনিটরিং করা হচ্ছে জল ছাড়া নিয়ে যেন মানুষের ক্ষতি না হয়। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলা এবং ঝাড়খণ্ডের জল নামছে ফলে সমস্ত বিষয়ের উপরে নজর রাখা হয়েছে। তেনুঘাট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেচমন্ত্রী বলেন,মুখ্যমন্ত্রী সেচ দপ্তরের কর্তারা এবং আমি নিজে বারবার কথা বলেছি। তেনুঘাটকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অপারেট করা যায়। বন্যার যন্ত্রণা যাতে পেতে না হয় তার প্রতি সজাগ রয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা বলে জানান তিনি। সেচমন্ত্রী ব্যারাজগুলির গভীরতা কমে যাওয়ার জন্য কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা না দেওয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, ১২ বছর ধরে কেন্দ্রের জলসম্পদ দপ্তর, প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দেখছি দেখছি করে পার করে দিচ্ছে কিন্তু রাজ্যের হকের টাকা দিচ্ছে না। দুর্গাপুর ব্যারাজের এক নম্বর গেটে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকেরা এ নিয়ে সেচমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সেচমন্ত্রী বলেন, সব দিক নজরে রাখা হয়েছে,সংস্কার হবে। সেচমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন,একটা নয়া পয়সা কেন্দ্রের সরকার দেয় নি। তবু একের পর এক কাজ হচ্ছে এবং এটাও করা হবে। বিকল্প সেতু নিয়ে তিনি বলেন, এবিষয়ে কি করা যায় দেখা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে সেতুর এই কাজ শেষ হওয়ায় তিনি নিজেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *