চিত্তরঞ্জন রেল শহরে চিরেকা প্রশাসনের বড় পদক্ষেপ, ১৬ টি ক্লাব এর উপর চালানো হল বুলডোজার

কাজল মিত্র:- মঙ্গলবার সকাল থেকেই চিত্তরঞ্জন রেল প্রশাসন নিজের এলাকায় রেলের একটি সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপে,মোট ১৬ টি অননুমোদিত ক্লাব ভেঙে ফেলা হল।যেখানে আরপিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি কমিশনার সোমনাথ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে
আরপিএফ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, আইওডাব্লু টিম এবং জেসিবি মেশিনের সহায়তায় এই অভিযান চালানো হয়।তাছাড়াও এদিনের এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন
এবং চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার উত্তম কুমার মাইতি।তবে অভিযান চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

চিত্তরঞ্জনে অবৈধ বাড়ি নির্মাণ ভেঙে ফেলার পর এবার বিভিন্ন ক্লাবগুলোকে ভেঙে ফেলা নোটিশ জারি করা হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে।প্রশাসন রেলের জমিতে অননুমোদিত নির্মাণ হিসাবে এই ক্লাবগুলি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল।উল্লেখ্য, ক্লাবগুলো অপসারণের ঘোষণার পর সম্প্রতি চিরেকা প্রশাসনের সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি ও ভাইস ওয়ার্ডেনদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে একমত হয়, প্রতিটি এলাকার একটি বা দুটি বড় ক্লাব ছাড়া অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রমের ক্লাবগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তা সত্ত্বেও, মঙ্গলবার 16 টি ক্লাবের পতনের ফলে অনেক ক্লাব সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ময় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিন যে সকল ক্লাবগুলিকে ভেঙে ফেলা হয় সেগুলি হল বো মার্কেট শ্রদ্ধা ক্লাব, গোল্ড মোহর ইয়ং অ্যাথলেটিক ক্লাব, 26 নম্বর ইয়ুথ সেন্টার ক্লাব, 30 নম্বর রোড নেতাজী ক্লাব, 37 নম্বর ভারত ইউনিয়ন ক্লাব, 24 নম্বর যুব উন্নয়ন ক্লাব, 25 নম্বর মিলন সংঘ, 31 নম্বর সবুজমেলা ক্লাব, 29 নম্বর অভিজন ক্লাব, 34 নম্বর ভগৎ ইউনিয়ন ক্লাব,38 নম্বর নবারুণ ইউনিয়ন ক্লাব, 40 নম্বর অভিনব ক্লাব, দিল্লি কলোনি আমরা সবাই ক্লাব, আমলাদহি মার্কেট ক্লাব, আর সাইড রবীন্দ্র সংঘ ক্লাব এবং সানডে ক্লাবে অভিযান চালানো হয়।

এসব ক্লাব বহু বছর ধরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।এদিন এই ক্লাব গুলি ভাঙার সময়, অনেক ক্লাব তাদের জিনিসপত্র নিরাপদে বের করার সুযোগও পায়নি।
এবিষয়ে ইন্দ্রজিৎ সিং জানান
চিত্তরঞ্জন রেল শহর তথা শিল্পাঞ্চলের অন্যতম ক্রীড়া সংস্থা ইয়ং অ্যাথলেটিক ক্লাব এই উচ্ছেদের কবলে পড়েছে। যারা এই অঞ্চলে ক্রস কান্ট্রি দৌড় সহ নানান আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন দীর্ঘকাল ধরে করে আসছেন। প্রতিটি ক্লাবই কিছু না কিছু সামাজিক কাজ করে থাকে চিত্তরঞ্জন অঞ্চলে।তবুও এই ধরনের অভিযানে নিত্যান্তই ক্ষোভে ভেঙে পড়েছে চিত্তরঞ্জন বাসী । অনেকেই মনে করছেন এইসব ক্লাবগুলি থাকাতে এলাকায় অনেকটাই থাকার সাহস পেত তারা কিন্তু এবার সেই সাহসটুকু তারা পাবে না রাত্রে বেলায় মোড়ে ক্লাব থাকলে এলাকার মহিলারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারতো কিন্তু আর সেই নিরাপদ থাকবে না এমনিতেই চিত্তরঞ্জন এলাকায় চুরি ছিনতাই ওগুলি কাণ্ডের শিরোনামে নান উঠেছে। এরপর এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযানে দুষ্কৃতীদের আড্ডা আরো বেড়ে যাবে মন বলে মনে করছেন বিশিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *