কাজল মিত্র : ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)এর তরফে আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকায় একটি পরিবর্তন সভার আয়োজন করা হয়।যেখানে আসানসোল রেল স্টেশনের ঠিক সামনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বিপুল সংখ্যক বিজেপি কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী এবং অন্যান্য বিজেপি নেতারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা পশ্চিমবঙ্গে বিরাজমান অরাজকতা ও দুর্নীতি নিয়ে মমতা সরকারকে তীব্র নিশানা করেন।
সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বিজেপি নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী বলেন যে দেশের ১২ টি রাজ্যে এসআইআর-এর প্রক্রিয়া চলছে, তবে কোনও রাজ্যেই বিরোধী দল নেই। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রতিদিনই এসআইআর নিয়ে ঝামেলা চলছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস এর নেতারা প্রতিনিয়ত এর বিরোধিতা করছেন।
তিনি আরো বলেন যে কিছুদিন আগে দেখা গেছে যে কিছু প্রবীণ ব্যক্তিকে বাস এবং যানবাহনের মাধ্যমে শুনানির জন্য এসআইআর সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার কারণে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছিল। কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি অভিযোগ, মণিমালা স্কুলের সামনে বিজেপি শিবিরে হামলা চালায় তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা।
কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি দাবি করেন যে এসআইআর-এর ভিত্তিতেআসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৫ ,হাজার ভোটার বাদ পড়েছে ।যা এই ভোট থেকে তারা জয়ী হয়েছিল। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস যতই চেষ্টা করুক না কেন, এখন এখানে বিজেপির জয় নিশ্চিত।

বিজেপি নেতা তৃণমূল কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করা হবে এবং দলকে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন বার্নপুর ইসকো থেকে জুবিলি মোর পর্যন্ত রাস্তাটি বহু বছর ধরে নির্মাণ করা হয়নি। ডিসেরগড়ের রাস্তাঘাট খারাপ। আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ নোংরা জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পুরসভা থেকে সঠিকভাবে জল সরবরাহ করা হচ্ছে না।
জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সেখানে গরিবদের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। রোগীদের অন্য জেলায় রেফার করা হয় এবং পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই।আসানসোল উত্তরের বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী মালয় ঘটককে প্রশ্ন করে বলেন গত 15 বছরে এই অঞ্চলে কোনও নতুন কারখানা তৈরি হয়নি।অথচ একের পর এক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনও কর্মসংস্থান দেওয়া হয়নি, যার কারণে যুব সমাজ তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরে স্লোগান দিতে বাধ্য হচ্ছে।তিনি অভিযোগ করেন,এলাকায় মাদক নেশা ও ড্রাগস এর মত নেশা বৃদ্ধি পাচ্ছে বাড়ছে চোরাচালান যারফলে যুবকরা মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে।পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের কোনও নিরাপত্তা নেই,একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে আর মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়গুলি সাধারণ ঘটনা বলে চালিয়ে যাচ্ছে ।
