নিজস্ব সংবাদদাতা, কাজল মিত্র বারাবনি: লক্ষ্মী পুজো মানেই শুধু আলোর উৎসব নয়, এবার সমাজসেবার বার্তা। পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি ব্লকের ইটাপাড়া গ্রামে শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পুজো কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল এক বিশাল সচেতনতা র্যালি।প্রতি বছর পুজো উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও এবার অভিনবত্ব ছিল রক্তদান ও পরিবেশ সচেতনতা। ইটাপাড়া লক্ষ্মী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে গোটা গ্রাম পরিক্রমা করে এই র্যালি। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান — “পরিবেশ বাঁচাও”, “রক্তদানে এগিয়ে আসুন”। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতায় ছিল বারাবনি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার সোসাইটি ও ইটাপাড়া অগ্নিবীণা সেবা সমিতি। আয়োজকদের দাবি, ইটাপাড়ার বুকে এ এক ইতিহাস।

কমিটির পক্ষে তিলক সাধু জানান, “এই র্যালি শুধু সূচনা।” আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৪টের সময় গ্রামে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জন রক্তদাতা নাম নথিভুক্ত করেছেন, সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা।ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার সোসাইটির ডাকে “উৎসবের অর্ঘ্য হোক রক্তদান” স্লোগানকে সামনে রেখে এই পদযাত্রা। গ্রামে প্রথমবার এই ধরনের পদযাত্রা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

এদিন সভায় বক্তব্য রাখেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার সোসাইটির সম্পাদক সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “বর্তমানে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের সংকট রয়েছে। শুধু শহর নয়, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতেও যাতে রক্তদান শিবির বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টাই আমরা নিরন্তর চালিয়ে যাব। লক্ষ্মী পুজোকে সামনে রেখে ইটাপাড়ায় রক্তদান শিবির এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একই স্লোগানে বহু শিবির হচ্ছে, এটাই বড় পাওনা।” গ্রামের সমস্ত মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জেলা ও রাজ্য কমিটি।এই সামাজিক কর্মসূচিতে বিধায়কের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সনৎ মন্ডল। তিনি বলেন, “গ্রামবাসীর এই সুন্দর সামাজিকমূলক কাজের উদ্যোগকে প্রথমত আমি বিধায়ক সাহেবের তরফ থেকে অভিনন্দন জানাই। এই সামাজিকমূলক কাজে বিধায়ক সাহেবের যেরকম সহযোগিতা লাগবে, আমরা সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে রাজি আছি।” গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগকে তিনি স্যালুট জানান।
