সংবাদদাতা, অন্ডাল: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পবিত্র তিথিতে আলোর রোশনাই ও বর্ণাঢ্য সাজে সেজে উঠেছে রানিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত অন্ডাল ব্লকের দক্ষিণখণ্ড। দক্ষিণখণ্ড পল্লী উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে এ বছর ৫৬তম বর্ষে পদার্পণ করল এলাকার ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো। পুজোকে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় আবহই নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা এবং নরনারায়ণ সেবার আয়োজন ঘিরেও এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

রবিবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রানিগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ। এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়ন্ত মিশ্র, দে গ্রুপের কর্ণধার, অন্ডাল ট্রাফিকের প্রবীর পাল, আশিস পাল, সন্তোষ হাজরা, রানাপ্রতাপ ব্যানার্জি, ভজন পাল, তারকনাথ সূত্রধর, সুমন হাজরা, বাবন হাজরা-সহ পুজো কমিটির বিশিষ্ট সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।পুজোমণ্ডপের দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা ও অপূর্ব কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হন বিধায়ক পার্থ ঘোষ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি সকলের বিধায়ক। যে কোনও রাজনৈতিক দলের মানুষই আমার কাছে আসতে পারেন। আমি সকলের জন্য কাজ করতে চাই। এলাকার প্রতিটি মানুষ যেন সুস্থ ও ভালো থাকেন, সেটাই আমার কামনা।” তাঁর এই বক্তব্যে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে থাকার বার্তা উঠে আসে।

পুজো কমিটির সম্পাদক আশিস পাল জানান, দক্ষিণখণ্ডের ধর্মরাজ মন্দিরতলায় এই লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নরনারায়ণ সেবা এবং মেলার আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণখণ্ড-সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারাও পুজোকে সফল করে তুলতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন।

এ বছরের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ এলাকার মৃৎশিল্পী নয়নবাবুর তৈরি লক্ষ্মীপ্রতিমা। প্রতিমার অনন্য শিল্পকর্ম ও নিপুণ কারুকার্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর শিল্পসত্তা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ পুজো কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, এই সম্মাননা তাঁকে আগামী দিনে আরও উৎসাহের সঙ্গে শিল্পকর্ম চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।

দক্ষিণখণ্ড পল্লী উন্নয়ন সমিতির ৫৬তম বর্ষের এই লক্ষ্মীপুজো তাই কেবল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতিচর্চা এবং লোকশিল্পের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দক্ষিণখণ্ড জুড়ে এখন উৎসবের আবহ।
