নেই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী,ঘন্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর : – নিয়োগ কেলেঙ্কারী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক ধাক্কায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকশিক্ষিকার চাকরী চলে গেছে। এরমধ্যে অনেক স্কুলেরই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীও রয়েছেন। ফলে,স্কুল পরিচালনায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সমস্যা। দুর্গাপুরের জেমুয়া ভাদুবালা হাই স্কুলও এই সমস্যার শিকার। তাই দেখা গেল স্কুলের তালা খোলার আর ঘন্টা বাজানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন খোদ ‘হেডমাস্টার মশাই’। প্রিয় শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের এভাবে চাকরী চলে যাওয়ায় ভেঙে পরেছে ছাত্রছাত্রীরাও। তাদের সঙ্গেই কান্নাকাটি করছেন সহশিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকও। দুর্গাপুরের দুটি বড় স্কুল ভাদুবালা ও নেপালী পাড়া রীতিমতো সমস্যায় পড়েছে। অযোগ্যদের সাথে যোগ্যরাও চাকরি হারানোয় হাহাকার রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে। দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি হারিয়েছে ৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তিনজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী। জেমুয়া ভাদু বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ১ জন তৃতীয় শ্রেণীর (গ্রুপ সি) কর্মী আর ১ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী (গ্রুপ ডি) কাজ হারান। জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী কাজ হারানোয় ঘণ্টা বাজানো আর তালা খোলার লোক নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই দুটি কাজের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক জইনুল হক। তিনি জানিয়েছেন,”স্কুলে শিক্ষক সংকট তো হলোই। সেই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী না থাকায় আরও সংকট বেড়েছে। মন খারাপ আমাদের সকলের। এর জন্য যদি কেউ দায়ী হয় তাহলে সরকার।” নেপালি পরা হিন্দি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা.কলিমুল হক বলেছেন,” শনিবার ছিল স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান। কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করলাম। বিএড কলেজের ১০ জন পড়ুয়া দিয়ে শিক্ষক সংকট পূরণ করা হয়েছে। পার্ট টাইম কর্মীরা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের সংকট পূরণ করছে। কিন্তু যারা যোগ্য শিক্ষক তাদের চাকরি হারাতে হলো। সেই জন্য আমাদের সত্যিই কষ্ট হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *