সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ মাত্র ৯ বছর বয়সেই কিক বক্সিংয়ের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল দুর্গাপুরের পূর্ব ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী আরাধ্যা ধীবর। গত গত ৭ থেকে ১২ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরের ব্যাংকক ইউথ সেন্টার (থাই জাপান) ইনডোর স্টেডিয়ামে কিক বক্সিং বিশ্বকাপের প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আরাধ্যা ধীবর দেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এখানে চাইল্ড ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করে। -৩৬ ও +৩৬ বিভাগে পয়েন্ট ফাইট ইভেন্টে সে প্রতিনিধিত্ব করে দুটি স্বর্ণ পদক জিতে নজীর গড়েছে। এখানে মোট ৪০টি দেশের প্রায় ৯০০ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড ছাড়াও মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স,স্পেন, তুরস্ক,ডেনমার্ক,ইসরায়েল,

প্যালেস্টাইন,আমেরিকা,কানাডা,পর্তুগাল, মরিশাস, মরক্কো,ইউক্রেন,উজবেকিস্তান,জার্মানি,আয়ারল্যান্ড, এস্টোনিয়া, ইরাক,ইরান, চিন,ভারত,পাকিস্তান প্রভৃতি ৩০টিরও বেশি দেশ অংশ নিয়েছিল। এই বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় আরাধ্যা ছোটদের দুটি বিভাগে অংশ নিয়ে দুটি স্বর্ণ পদক জয় করে নজীর গড়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ওয়াকো ইন্ডিয়া ওপেন ইন্টারন্যাশনাল কিক বক্সিং প্রতিযোগিতার তিনটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনটি সোনার পদক জিতে দুর্গাপুরের খেলাধূলার জগতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল আরাধ্যা ধীবর। কিক বক্সিংয়ের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশের বিভিন্ন বয়সের হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহন করেছিল। তাদের মধ্যে তিনটি স্বর্ণপদক পেয়ে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করে ছিল দুর্গাপুরের এই মেয়ে। এই দারুন সাফল্যের জন্যই সে কিক বক্সিংয়ের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
তবে এই বিশ্বকাপে সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না তার কাছে। আর্থিক সমস্যা মূল কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। রেজিস্ট্রেশন ফিস,যাওয়া আসার খরচ,আন্তর্জাতিক মানের খেলার সরঞ্জাম,অভিভাবকের সমস্ত খরচ ইত্যাদি দরুন প্রায় ৩ লক্ষ টাকা অর্থ মূল্য হওয়ায় একটা সময় হাল ছেড়ে দেয় আরাধ্যার বাবা মা। অনেক নেতা, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আশ্বাস দিয়েও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বেশির ভাগ অর্থ লোন করে ও মেয়ের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় থেকে ব্যয় করেছেন তার বাবা মা। প্রশিক্ষক ঈশ্বর মাঝির আন্তরিক প্রচেষ্টায় কিছু সমাজসেবী এগিয়ে এসে আরাধ্যাকে সহযোগিতার করে। আরাধ্যার স্কুলের ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার প্রিন্সিপাল সুব্রত চ্যাটার্জী জানিয়েছেন, “আমরা খুবই গর্বিত আরাধ্যার বিশ্বজয়ের খবরে।আমাদের স্কুলের তরফ থেকে কিছু সহযোগিতা করা হয়েছে আরাধ্যাকে। আগামী দিনেও তার পাশে আমরা দাঁড়াবো”। মেয়ের এই অসাধ্য সাধনের ঘটনায় আপ্লুত কাকলীদেবী বলেছেন, “আমরা এই স্বপ্নই দেখেছিলাম। সব বাধা পেরিয়ে মেয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে সোনার পদক জিতে ফেরায় আমরা সত্যি গর্বিত। এবার আশা করব আরাধ্যার আগামী দিনগুলির জন্য সরকারীভাবে সহযোগিতা পাব। তাহলে দেশকে আরও সম্মান এনে দিতে পারবে”। উল্লেখ্য,খুব ছোটো থেকেই আরাধ্যা এল এস এম কিক বক্সিং অ্যাকাডেমির ছাত্রী।
