সংবাদদাতা,আসানসোলঃ খনি শিল্পাঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হল আসানসোল- চিত্তরঞ্জন রোডের উপর দেন্দুয়া মোড়। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ী যাতায়াত করে। বিশেষ বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী গাড়ির জন্য এই এলাকায় প্রতিদিনই ব্যাপক জ্যামের সৃষ্টি হয়। ফলে গাড়ি চালক থেকে সাধারন নিত্যযাত্রী সকলেই সমস্যায় পড়েন। অনেক দিন ধরেই দেন্দুয়া মোড়ের জ্যাম নিয়ে বিরক্ত সবাই। বারবার এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হলেও তা কার্যকরী হয়নি। এবার দেখা গেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানকার যানজট নিয়ন্ত্রণে পাকাপাকি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সালানপুর বিডিও অফিসে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক করা হল। বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাসের পৌরহিত্যে এই বৈঠকে অংশ নেন- ইসিএল বনজেমারির এজেন্ট দীনেশ প্রসাদ, সংশ্লিষ্ট কোলিয়ারির নিরাপত্তা

আধিকারিক,পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান,সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৈলাশপতি মন্ডল, সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র, তৃণমূল নেতা মুকুল উপাধ্যায়, সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অমিত কুমার হাটি,কুলটি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ইনচার্জ সৌরভ চৌধুরী,কল্যানেশ্বরী ফাঁড়ির ওসি লাল্টু পাখিরা,সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং,দেন্দুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রকাশ মাজি,সালানপুর পঞ্চায়েতের পক্ষে ফুচু বাউরি। বৈঠকে সালানপুর ব্লকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেন্দুয়ার যানজট মুক্ত করার জন্য সবাই মতামত দেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, মূলত ইসিএল-এর কয়লাবাহী ডাম্পার,বড় বড় ট্রাক,ট্রেলার চলার জন্যই যানজটে বিপর্যস্ত হচ্ছে দেন্দুয়া মোড়। সেজন্য ইসিএলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রাত ন’টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত তারা কয়লা পরিবহনকারী বাহন চালাক। দিনের বেলায় সকাল সাতটা থেকে রাত্রি ন’টা পর্যন্ত এইসব ভারী বাহনের জন্য “নো এন্ট্রি” ব্যবস্থা কড়া হাতে কার্যকরী করবে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়াও দেন্দুয়া শিল্প তালুকের মূলত দুটি বড় কারখানা থেকে মালবাহী ট্রাক দেন্দুয়া মোড় হয়ে যাতায়াত করে। সেগুলিকেও কল্যানেশ্বরী হয়ে জাতীয় সড়ক ধরার ব্যবস্থা করবে ট্রাফিক পুলিশ। এরই সঙ্গে ই সি এল কর্তৃপক্ষকে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরীর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আলোচনায় সবাই দেন্দুয়া মোড়কে কোনভাবেই আর যানজটে ফেলা যাবে না বলে মত দেন। তার জন্য এক সপ্তাহ সময় ই সি এলকে বরাদ্দ করা হয়েছে। বৈঠকের কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট আশাবাদী মহম্মদ আরমান বলেন এই ব্যবস্থা যে কোন মূল্যেই কার্যকরী করতেই হবে।
