ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ইস্টার্ন রেলওয়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সামনে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের বিক্ষোভ

কাজল মিত্র : শুক্রবার সকাল থেকেই আসানসোল এর ইস্টার্ন রেলওয়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সামনে ভর্তির প্রক্রিয়া কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ।
স্কুল চত্বরে অভিভাবক ও পড়ুয়ারা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন দেখাতে থাকে ।বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা বলেন, রেলের এই স্কুলটি আগে পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের অধীনে ছিলো। কিন্তু পরে এটি সিবিএসই বোর্ডের অধীনে স্থানান্তরিত হয়। এখন, যেহেতু পড়ুয়ারা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তির চেষ্টা করছে, তাই তাদের বলা হচ্ছে যে তাদের আইসিএসই পড়ুয়াদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। যা সম্পূর্ণ অন্যায্য। এদিন এই প্রক্রিয়ারই অভিভাবক ও পড়ুয়ারা তীব্র প্রতিবাদ জানান।পড়ুয়ারা আরো বলে, তাদের ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০২২ সাল পর্যন্ত, স্কুলটি পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের অধীনে একটি হিন্দি-মাধ্যম স্কুল ছিল। কিন্তু ২০২২ সালে, হঠাৎ এবং জোরপূর্বক তাদের সিবিএসইর অধীনে আনা হয়। তারা বলেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সিবিএসইতে যোগদান না করলে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টিসি দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অতএব, মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিবিএসই বোর্ড গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু এখন কি যাচ্ছে? আমাদেরকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য একটি ভর্তির পরীক্ষা দিতে হবে। এই ভর্তি পরীক্ষায় আইসিএসইর ছাত্ররাও থাকবে। তারা এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলে, তাদের শিক্ষা শুরু হয়েছিল হিন্দি মাধ্যমে। এখন, যদি হঠাৎ তাকে ইংরেজি-মাধ্যমের ছাত্রদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়, তাহলে সে কখনই পাশ করতে পারবে না। সেই কারণেই তিনি আজ প্রতিবাদ করছেন।পড়ুয়াদের সঙ্গে অভিভাবকেরা বলেন, আমরা এই বিষয়ে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের ডিআরএম বা ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের সাথে দেখা করে কথা বলেছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। অভিভাবকরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, তারা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। তারা বেসরকারি স্কুলে নেওয়া উচ্চ ফি বহন করতে পারবেন না। সেই কারণেই তারা তাদের সন্তানদের রেলের স্কুলে পড়াচ্ছেন। কিন্তু এখন, হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন করে, শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে স্কুলের তরফে বলা হয়েছে, এদিন যারা প্রতিবাদ করেছেন তাদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা তারা নেবেন। স্কুল কতৃপক্ষ গোটা বিষয় নিয়ে অভিভাবকদের কাছে সাত দিনের সময় চেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *