ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশন এর বাইরে ভুল ঔষুধ দেওয়ার ফলে গর্ভে নষ্ট সন্তান, মৃত্যু শয্যায় রোগী

কাজল মিত্র :- সালানপুর থানা জেমারি রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় এক ওষুধ দোকানের মালিক ভুল ওষুধ দেওয়ার ফলে মায়ের গর্ভে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, বাসুদেবপুর জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের শিরীষবেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা উমেশ মাহাতা তার গর্ভবতী স্ত্রী চামেলী মাহাতো অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসক এ.পি. চৌধুরির কাছে নিয়ে যান।সেখানে চিকিৎসক এ পি চৌধুরীর কাছে চিকিৎসা করায় এবং চিকিৎসক তার প্রেসক্রিপশনে ওই গর্ভবতী মহিলাকে ১০০ পাওয়ারের একটি ঔষধ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন ।কিন্তু পাল মেডিকেল এর মালিক বিনয় পাল চিকিৎসকের স্পষ্ট প্রেসক্রিপশন উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালে‘হাই পাওয়ার’ওষুধ দেয় ওই গর্ভবতী মহিলাকে।পরিবারের অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ার পরই চাঁদনি মাহাতোর শরীরে নেমে আসে বিভীষিকা।

অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়, সঙ্গে সঙ্গে তীব্র রক্তক্ষরণ। আতঙ্কে পরিবার তাঁকে ফের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওষুধ দেখে চিকিৎসক নিজেই বিস্মিত হন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ওষুধ নির্ধারিত ডোজের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তী তিন দিন ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রবিবার তাঁকে পিঠাকেয়ারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেয় গর্ভপাত হয়ে গেছে। নিভে যায় একটি অজাত প্রাণ।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেমারিতে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। বহু গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে মেডিকেল স্টোর ঘেরাও করেন এবং দোকান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর—এই দোকানদার নতুন নন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ দিয়ে আসছেন। এর আগেও ক্ষতির অভিযোগ উঠলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত দোকানদার অবশ্য দায় এড়িয়ে দাবি করেছেন, তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেই ওষুধ দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাবাসীর বক্তব্য, ফোনে কথা বলার অজুহাতে প্রেসক্রিপশনের ডোজ বদলানোর অধিকার কারও নেই।
ঘটনার খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লিখিত অভিযোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে,অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হবে। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে ড্রাগ ইন্সপেক্টর দিয়ে সংশ্লিষ্ট ওষুধের ব্যাচ ও পাওয়ার পরীক্ষা করা হোক এবং দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *