রূপনারায়ণপুরে গ্রেফতার তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা ইন্দ্রনীল মণ্ডল, রাস্তা ঘিরে ফেলল ক্ষুব্ধ মানুষ

কাজল মিত্র :তৃণমূল কংগ্রেসের (তৃণমূল) শাসনকালে রূপনারায়ণপুর ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী কথিত শক্তিশালী নেতা ইন্দ্রনীল মণ্ডল অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল। বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা ইন্দ্রনীলকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রূপনারায়ণপুর বাজার এলাকায় দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।ইন্দ্রনীল মন্ডল বাজারের এক সেলুন থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই জনসাধারণ তাদের ঘিরে ফেলে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন পর আজ সন্ধ্যায় রূপনারায়ণপুর মার্কেটের একটি সেলুনে চুল কাটার জন্য এসেছিলেন ইন্দ্রনীল মণ্ডল। এরপর দুর্গা মন্দির এলাকায় ঘুরে বেড়াতে থাকাকালীন স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে পায়। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ জনগণ তৎক্ষণাৎ তাকে ঘিরে ফেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং লোকজন তাঁকে দুর্গা মন্দির এলাকা থেকে টেনে নিয়ে যায় এবং প্রতিবাদ করে ডাবরমোরে নিয়ে আসে। ডাবরমোরে বিপুল সংখ্যক লোক জড়ো হয়েছিল এবং ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

👉বিজেপি নেতার হস্তক্ষেপ

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বিজেপি নেতা বাবন মণ্ডল তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ইন্দ্রনীলকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে যায়।

👉 > পুলিশ সূত্রের বিবৃতি:
ইন্দ্রনীল মণ্ডলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুরোনো মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানান,এখন জনগণের কাছ থেকে নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে তার ওপর আরও অনেক গুরুতর ধারা আরোপ করা হতে পারে। অভিযুক্তদের 10 জুলাই আসানসোল আদালতে হাজির করা হবে।

ইন্দ্রনীল মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর এলাকায় নানা আলোচনা তীব্র হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এক সময় তিনি এলাকার প্রভাবশালী ভোলা সিংয়ের গাড়িচালক ছিলেন এবং তাঁর উৎপীড়নের বিরুদ্ধে পুরো এলাকায় নিজের কর্তৃত্ব প্রদর্শন করতেন।
👉এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি নেতা বাবান মণ্ডল জানানপঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়, যখন তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সেই সময় এই ইন্দ্রনীল মন্ডল প্রকাশ্যে তাকে অপমান করেছিলেন এবং হয়রানি করেছিলেন।তাছাড়া এলাকার ক্লাব ভাঙচুর করা, অবৈধ অস্ত্রের জোরে মানুষকে ভয় দেখানো এবং চাঁদাবাজি করা তার প্রতিদিনের কাজ ছিল। আজ জনগণ তাকে সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। “তবে ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতারের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন রূপনারায়ণপুর এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।।
পুলিশ এখন এই মামলায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *