বাড়ির সামনে ফাঁকা জমিতে মৃতদেহের সমাধি, আতঙ্কে জেলাশাসকের দফতরে অভিযোগ বাসিন্দার::গুরুতর কাণ্ড রূপনারায়ণপুর চিতালডাঙ্গা এলাকায়

কাজল মিত্র : বাড়ির সামনে রয়েছে ফাঁকা জমি সেই জমিতে রাতের অন্ধকারের সুযোগে মৃতদেহের সমাধি দেওয়াকে কেন্দ্র করে রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন চিতলডাঙ্গায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ‌বিষয়টি নিয়ে চিতল ডাঙ্গার বাসিন্দা মুকেশ কুমার পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রসাশন । ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ১০ জুলাই জেলা প্রশাসন পুলিশ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগ এলাকায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছে। ‌ সেই রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ‌ তবে ঘটনার সম্পর্কে প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে যৌথ পরিদর্শন হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু জানানো যাবে না। ‌ অন্যদিকে ঘটনাস্থল রুপনারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন হলেও এই বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান এর এই বিষয়ে কিছুই জানা নেই ।

স্থানীয় বাসিন্দা মুকেশ কুমার

জানান যে ২৯ জুন সন্ধ্যার দিকে তাদের বাড়ির একেবারে সামনের ফাঁকা জায়গায় একটি মৃতদেহ সমাধি দেওয়া হয় । এবিষয়ে
তিনি ১ জুলাই জেলাশাসক, আসানসোল মহকুমাশাসক, সালানপুর বিডিও এবং সালানপুর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেন। ‌ এই অভিযোগে তিনি জানতে চান – মৃতদেহ এই ফাঁকা জমিতে রাখা বা সমাধি দেওয়ার অনুমতি কে দিয়েছেন? এবং যদি দিয়ে থাকেন তাহলে কোন নথির ভিত্তিতে তা দেওয়া হয়েছে? এছাড়াও তিনি জানতে চান মৃতদেহ সন্ধ্যার সময় এনে সমাধি দেওয়ার ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় আইন পালন করা হয়েছে কিনা? এই জমি সরকারি নথিতে কবরস্থান বা শ্মশান বলে রেজিস্টার্ড আছে কিনা? এরই সঙ্গে তিনি জানতে চেয়েছেন যদি এই জমি কারো ব্যক্তিগত নামে নথিভুক্ত আছে তাহলে সেই জমি কবরস্থান বা সমাধিক্ষেত্র কিম্বা শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করার বৈধ নিয়ম আছে কিনা? গুরুতর এই অভিযোগ জেলাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছাতেই দ্রুত ব্যবস্থা নেন তিনি। ‌ জেলাশাসকের কার্যালয়ের জেনারেল সেকশন মেমো নম্বর ২৫৯/জেন/পিজিসি, তারিখ ৩/৭/২০২৬ জারি করে সালানপুর বিডিওকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। এরপরই ১০ জুলাই ব্লক প্রশাসন, ব্লক ভূমি দপ্তর, সালানপুর থানা রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির প্রতিনিধিরা চিতলডাঙ্গায় নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে সরেজমিন সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন।


প্রশাসনের এই দ্রুত উদ্যোগে মুকেশ কুমার ও তার পরিবার আশ্বস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।তবে তারা এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কে আছেন। ‌ তারা চাইছেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর যত দ্রুত সম্ভব ফাঁকা ওই জমির ডিমার্কেশন করুক এবং পাঁচিল দেওয়ার নির্দেশ দিক। ‌ একই সঙ্গে তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তার পরিবারের সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ‌ এখন দেখার প্রশাসন এই বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *