কাজল মিত্র : ডিভিসির লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় পুনরায় শুরু হলো বুলডোজার অভিযান ।যেখানে লেফট ব্যাংক এলাকার আবাসন গুলি ভাঙার কাজ চলছে এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে কার্যত জনশূন্য ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা।আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আবহে মাথার ওপর থেকে ছাদ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েকশো পরিবার।প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ১৫ই জুন ডিভিসির তরফে এই লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় প্রথম উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। সেদিন পাঁচটি আবাসন ভেঙেও ফেলা হয়।

তবে আবাসনে বসবাসকারী বাসিন্দাদের চরম দুর্দশার কথা বিবেচনা করে এবং তাঁদের অনুরোধে আসরে নেমেছিলেন বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়। তিনি ডিভিসি কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক এক মাস পার হতেই, আজ পুনরায় কোমর বেঁধে মাঠে নামে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ।কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এদিন সকাল থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশ ও ডিভিসির নিজস্ব সুরক্ষা বাহিনীর বিশাল দল। কড়া নিরাপত্তার মাঝে দুটি বুলডোজার দিয়ে একের পর এক আবাসন গুড়িয়ে ফেলা হল। আবাসন চত্বরে থাকা বেশ কয়েকটি গাছও বুলডোজারের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।ডিভিসির ডিজিএম (DGM) জানান, লেফ্ট ব্যাংক এলাকায় মোট ১১০টি তাদের নিজস্ব আবাসন ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আজ তারই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।এদিকে এই অভিযানের জেরে কার্যত খাঁ খাঁ করছে একসময়ের জমজমাট ও জনবহুল লেফ্ট ব্যাংক এলাকা। উচ্ছেদ হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ২২ বছর ধরে তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করছেন। হঠাৎ করে এই ভরা বর্ষার মধ্যে মাত্র এক মাসের নোটিশে তাঁরা কোথায় যাবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।সাড়ে চারশোটিরও বেশি পরিবার এখানে বসবাস করত। রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর থেকেই এই উচ্ছেদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই বর্ষার দিনে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় যাবে। প্রশ্ন উঠছে ঘরহারা এই মানুষগুলো শেষমেশ কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
