কাজল মিত্র, আসানসোল : যেখানে এক ফোঁটা পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছে গোটা গ্রাম, সেখানে দিনের পর দিন পাইপ ফেটে রাস্তায় বয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার লিটার পরিশ্রুত পানীয় জল! অথচ সব দেখেও কুম্ভকর্ণের ঘুমে প্রশাসন ও ঠিকাদার সংস্থা। এমনই এক চরম উদাসীনতার ও বৈপরীত্যের চিত্র ধরা পড়ল সালানপুর ব্লকের সিদাবাড়ি গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অবিলম্বে পাইপ মেরামত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিদাবাড়ি গ্রামের মোড়ের মাথায় পিএইচই (PHE)-র একটি প্রধান পানীয় জলের পাইপলাইন বেশ কিছুদিন ধরে ফেটে রয়েছে। সেখান থেকে অনবরত জল গলগল করে বেরিয়ে রাস্তায় বয়ে চলেছে। এর জেরে একদিকে যেমন গ্রামের পিচ রাস্তা জল জমে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঠিক উল্টো ছবি ঘরের ভেতরে। জলের অভাবে ভুগছে সিদাবাড়ি সহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁদের চোখের সামনেই রয়েছে জলের ওভারহেড ট্যাঙ্ক। অথচ তা সত্ত্বেও ৩ থেকে ৪ দিন অন্তর গ্রামবাসীরা জল পান। তার ওপর যদি এই প্রধান পাইপলাইন ফেটে জল এভাবে অপচয় হতে থাকে, তবে জল পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিতে হবে।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, জলের এই চরম অপচয় প্রশাসনের নজর এড়ালেও, বাদ যাননি কর্মরত শ্রমিকেরা। গ্রামবাসীদের দাবি, ঠিকাদার সংস্থার শ্রমিকেরা চোখের সামনে এই ভাঙা পাইপলাইন দেখলেও তা মেরামতের কোনো তাগিদ দেখায়নি। পিএইচই দপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার—কারোরই এই বিষয়ে কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।
এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানান, “চোখের সামনে ট্যাঙ্ক, অথচ ৩-৪ দিন পর পর জল পাই। আর এদিকে রাস্তায় জল বয়ে যাচ্ছে। জলের জন্য মানুষ হাহাকার করছে, ভালো রাস্তাও নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু ঠিকাদারের কোনো মাথাব্যথা নেই। শ্রমিকেরা দেখেও না দেখার ভান করছে।”
এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, পিএইচই কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার সংস্থা যদি অবিলম্বে উদ্যোগী হয়ে এই ফাটা পাইপ মেরামত না করে, তবে তাঁরা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। পানীয় জলের দাবিতে খুব শীঘ্রই তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
