কাজল মিত্র : কুলটি বোরো অফিসে কথিত আর্থিক দুর্নীতি, নাগরিক পরিষেবার বেহাল অবস্থা এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার আসানসোল পুরনিগমে বিক্ষোভে সামিল হয় কুলটি ব্লক কংগ্রেস। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন কুলটি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সুকান্ত দাস।পুরনিগমে প্রশাসক উপস্থিত না থাকায় তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসকের চেম্বারের বাইরে দেওয়ালে স্মারকলিপি সাঁটিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।স্মারকলিপিতে কংগ্রেসের দাবি, কুলটি বোরো অফিসে অতীতে হওয়া সমস্ত আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানসহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবিও জানানো হয়।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত দাস অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ট্যাক্স বিভাগে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, অডিটে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার গরমিল ধরা পড়লেও প্রকৃত দুর্নীতির অঙ্ক ১.৫ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিষয়টি তৎকালীন প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এফআইআর দায়ের করা হয়নি এবং আজও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়াও মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস সরবরাহ, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদান এবং পুরনিগমের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা। একইসঙ্গে আসানসোল পুরনিগম এলাকার একাধিক অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসবের মরশুমের আগে বৈধ পার্কিং ব্যবস্থা চালু না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
কংগ্রেসের অভিযোগের জবাবে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আন্দোলন করা সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে। কেউ দোষী হলে তাঁকে কোনওভাবেই ছাড়া হবে না।”তবে আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “প্রতিবাদ করুন, আন্দোলন করুন—আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে এবং ভাঙচুর দমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
