কাজল মিত্র : চোরের উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ রূপনারায়ণপুরবাসী। এবার কোনো গোপনে নয়, বরং গৃহস্থের ঘরে মদের আসর বসিয়ে ধীরেসুস্থে লুটপাট চালাল দুষ্কৃতীর দল। ঘরের ভেতরে খালি মদের বোতল এবং চাট হিসেবে খাওয়া চিপসের ছেঁড়া প্যাকেট ফেলে রেখে চম্পট দিয়েছে তারা। চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত পিঠাকিয়ারি এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৩১ জুলাই রাতে পিঠাকিয়ারির বাসিন্দা সন্তোষ মিশ্রর ফাঁকা বাড়িতে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। সন্তোষবাবু রেলের প্রাক্তন কর্মী, বর্তমানে কাজের সূত্রে মধ্যপ্রদেশের সিংরোলিতে থাকেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। বাড়িটি মূলত ফাঁকাই থাকত, তবে দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকার রাখা ছিল, যিনি প্রতিদিন রাতে এসে থাকতেন।

সন্তোষ মিশ্র জানান, চোরের দল ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং সমস্ত আসবাবপত্র ওলটপালট করে। এরপর তারা ঘরে থাকা ছেলের বিয়েতে পাওয়া যাবতীয় কাঁসার বাসনপত্র।পৈতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে পাওয়া কাঁসার সামগ্রী।ঠাকুরঘর ও নিত্যব্যবহার্য সমস্ত মূল্যবান কাঁসার জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
সন্তোষ মিশ্রের বক্তব্য ৩১ জুলাই রাতে কোনো কারণবশত কেয়ারটেকার বাড়িতে আসতে পারেননি। আর ঠিক সেই রাতেই এই চুরির ঘটনা ঘটল! দুষ্কৃতীরা পুলিশের চেয়েও বেশি ধুরন্ধর হয়ে উঠেছে। কোন বাড়িতে কখন কে থাকছে, সেই সমস্ত তথ্য তাদের হাতের মুঠোয়।”১ আগস্ট সকালে কেয়ারটেকার বাড়িতে এসে প্রথম চুরির বিষয়টি দেখতে পান। খবর পেয়ে সিংরোলি থেকে রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে রূপনারায়ণপুরে নিজের বাড়িতে ফেরেন সন্তোষবাবু। ঘটনার খবর পেয়েই রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং অন্যান্য সূত্র কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ জোর তদন্ত চালাচ্ছে। তবে একদিন কেয়ারটেকার না থাকার সুযোগেই এই অপরাধ ঘটায়, দুষ্কৃতীদের আগাম পরিকল্পনা এবং নজরদারির বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
