কাজল মিত্র : পিঠাইকেয়ারী, সালানপুর: কাল থেকে টানা বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিকে কাজে লাগিয়েই পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এবং বনদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হল “বৃক্ষরোপণ অভিযান”।মঙ্গলবার সালানপুরের পিঠাইকেয়ারী আদিবাসী পাড়ার বীর সিধু কানু মেমোরিয়াল হলে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস. পোন্নামবলম, দুর্গাপুরের ডিএফও ড. অনুপম খান, সালানপুরের BDO দেবাঞ্জন বিশ্বাস, যুগ্ম BDO সৌরভ কুমার, ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার তমালিকা চন্দ এবং রাজ্যের চিফ কনসালটেন্ট ফরেস্ট সহ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও স্কুলেরশিক্ষক-শিক্ষিকারা। আয়োজনের দায়িত্বে ছিল বীর সিধু কানু মেমোরিয়াল হল কর্তৃপক্ষ, যা একটি আদিবাসী সমাজকল্যাণ সংগঠন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রাজ্য জুড়ে “Single Day Plantation” কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। অর্থাৎ একদিনেই প্রতিটি গ্রামে গাছ লাগানো হবে।শুধু সালানপুর ব্লকে নয় রাজ্যের প্রতিটি ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই কর্মসূচি রূপায়িত হচ্ছে। পিঠাইকেয়ারী স্কুল চত্বরে এদিন ৩০০টি চারা রোপণ করা হয়।জেলা জুড়ে এই অভিযানে প্রায় ৪০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি MGNREGA প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে প্রতিটি Job Card Holder আগামী দিনে ১০০ থেকে ১২৫ দিন কাজের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলাশাসক এস পন্নবলম জানান
গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়। আগামী এক বছর গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। তাহলেই আগামী বর্ষার মধ্যে চারা বড় গাছে পরিণত হবে।”বৃষ্টির মধ্যেও বহু গ্রামবাসী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা।অনুষ্ঠানে রাজ্যের চিফ কনসালটেন্ট ফরেস্ট বলেন, রাজ্যে ১০ কোটি চারা রোপণ ও তা রক্ষার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ‘সবুজ স্বাধীনতা’।তিনি বলেন,”আজকের বৃষ্টি চারাগুলির জন্য ভালো। প্রকৃতিই যেন আমাদের কাজে সাহায্য করছে।”_অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বন দপ্তরের কর্মীরা হাতে হাত মিলিয়ে গাছ লাগান।
