অন্ডাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, কাজল মিত্র : একসময় কয়লা খনি অঞ্চলে চুরি-লুটপাট ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে দীর্ঘদিন সেই দাপট থেমেছিল। কিন্তু প্রায় ৩৪ বছর পর ফের অন্ডালের খনি অঞ্চলে দুষ্কৃতীদের দুঃসাহসিক তাণ্ডব। এবার চুপিসারে চুরি নয়, অস্ত্রের মুখে নিরাপত্তারক্ষীদের জিম্মি করে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠল।ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে অন্ডালের *পড়াশকোল ইস্ট কোলিয়ারিতে।
অভিযোগ, রাতের ডিউটিতে থাকা শ্রমিক হাজরি বাবু, বাতিবাবু ও তিনজন নিরাপত্তারক্ষীকে অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে একদল দুষ্কৃতী। এরপর তাদের মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ও এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি কোলিয়ারির টেলিফোনেও ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ।

খনি শ্রমিক রাজীব মাহাতো বলেন, “আচমকাই তরোয়াল হাতে কয়েকজন এসে আমাদের ভয় দেখায়। টাকা ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে চলে যায়।”প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তামার কেবল চুরি করতেই কোলিয়ারিতে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা। বাধা পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘরে আটকে রেখে মারধর করে লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।ঘটনার পর সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে কোলিয়ারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীরা কোলিয়ারির ভিতরে ঢুকে লুটপাট চালাল, তাহলে সিআইএসএফ কোথায় ছিল? এই প্রশ্নেই এখন তোলপাড় গোটা খনি অঞ্চল।

ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “রাতের ডিউটিতে শ্রমিকদেরই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে তাঁরা কোন ভরসায় কাজে আসবেন?”উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই কাজোড়ায় পরপর ECL আবাসনে চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। সেই ঘটনায় দুজন গ্রেফতার হলেও তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কোলিয়ারিতে হামলা। ফলে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন।খবর পেয়ে অন্ডাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কোলিয়ারি চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের একটাই প্রশ্ন – “কোলিয়ারির ভিতরেই যদি অস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীদের এমন দাপট চলে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে?”
