আসানসোল: কাজল মিত্র : ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঘিরে আসানসোলে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে।কংগ্রেসের জাতীয় কার্যালয়ে জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ না গাওয়ার অভিযোগ তুলে রবিবার আসানসোলে বিক্ষোভ দেখাল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি যুব মোর্চা।এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শহরের কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠল।ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।যুব মোর্চার অভিযোগ: “কংগ্রেস বিদেশি শক্তির দালালি করছে” গতকাল দিল্লিতে কংগ্রেসের জাতীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে আসানসোল শহরে মশাল মিছিল করে বিজেপি যুব মোর্চা। মিছিল শেষে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল দাহ করা হয়।বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা যুব মোর্চার এক নেতা বলেন,
“কংগ্রেস ভারতে থেকে, ভারতের খেয়ে বিদেশি শক্তির দালালি করছে। তারা সবসময় ভারতের ভালো কিছুর বিরোধিতা করে।”

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ বাংলার কৃতি সন্তান বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা। তাই কংগ্রেস যদি এই গানের বিরোধিতা করে, তাহলে তারা বাংলারও বিরোধী।
বিক্ষোভ শেষে কর্মীরা “ভারত মাতা কি জয়” ধ্বনি তোলেন। নেতা বলেন, “আসানসোল জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতাদের বলছি, যদি ইতালি তথা বিদেশের দালালি চালিয়ে যান, তাহলে বিজেপি যুব মোর্চা তীব্র আন্দোলন করবে এবং আপনাদের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেবে।”অন্যদিকে রাতেই আসানসোলের কংগ্রেস দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ তুলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে কংগ্রেস নেতৃত্ব।তাদের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় কর্মীদের বয়ান অনুযায়ী, রাতে একদল দুষ্কৃতী এসে কার্যালয়ের সামনে থাকা রাহুল গান্ধীর ছবি, রাজ্য সভাপতির ছবি, দলীয় পতাকা এবং অফিসের নামফলক ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার সময় অফিসের ভিতরে থাকা কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমাদের কর্মীরা খবর দেন যে বিজেপির লোকজন অফিসে ঢুকে রাহুল গান্ধীর ছবি, রাজ্য সভাপতির ছবি, পার্টির বোর্ড ও পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছে।কর্মীদের মারধরও করা হয়েছে। বিজেপি কংগ্রেসকে ভয় পাচ্ছে বলেই এই নোংরা রাজনীতি করছে। আসানসোলের মানুষ বিজেপির আসল চেহারা দেখেছে।”খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
