সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ প্রায় সাত দশক পর সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজের দমোদরের উপর সেতুর রাস্তার। কেন্দ্রীয় সরকার এই কাজে কোনো সহযোগিতা না করায় শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের সেচ দফতর এই সংস্কার কাজে হাত দিয়েছে। সেতুর রাস্তা সংস্কার হবে বলে ইতিমধ্যেই ব্রিজের নীচের দিকে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরী হয়েছে। সেই রাস্তা দিয়েই এখন দুচাকা,চারচাকা,অটো টোটো চলাচল করছে। সেতুর রাস্তার একদিকে কেবলমাত্র যাত্রীবাহী বাস,দমকল,অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেওয়া হচ্ছে। পণ্যবাহী ভারী গাড়িগুলিকে মেজিয়ার দিক থেকে যেতে বলা হচ্ছে। সোমবার সেতুর রাস্তার সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের সেচ ও জল সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। এদিন তিনি ব্যারেজের দুদিক সরেজমিনে দেখেন এবং সেচ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথাও বলেন। দুর্গাপুর সেচ দফতরের বাঙলোয় তিনি এক বৈঠকও করেন। সেখানে ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসক এস পুন্নমবলম,জেলার পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী,বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারী.বাঁকুড়ার জেলা শাসক এন সিয়াদ,বাঁকুড়ার সাংসদ অরুপ চক্রবর্তী এবং দুই জেলার সেচ দফতরের আধিকারিকরা। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন,নদী বাঁধ ভাঙনের জন্য ২০১৪ সাল থেকে তারা কোনো অর্থ দেয় না। প্রতি বছর রাজ্য সরকার ২৮৬ থেকে ২৯০ কিমি নদীবাঁধ সংস্কার করে। তারজন্য আমাদের খরচ দিতে হয় ৫৮৫ কোটি টাকা। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার ২ লক্ষ কোটি টাকা না দিয়ে বাংলাকে নানাভাবে বঞ্চিত করছে। তিনি আরও বলেছেন,এই সেতু দিয়ে বাঁকুড়া সহ আটটি জেলার যোগাযোগ। তাই, আমাদের লক্ষ্য হল মানুষের কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে ধাপে ধাপে এই সেতুর রাস্তা সংস্কার করে তোলা। বর্ষার জন্য আগামী ১৫ জুনের আগেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। কিন্তু, বিকল্প রাস্তার পাঁচটি জায়গায় জল জমে থাকা নিয়ে তিনি আপত্তি তুলে বলেছেন,বড় গাড়ির সমস্যা না হলেও অটো টোটো বাইক উল্টে যেতে পারে। বিষয়টি দেখার জন্য তিনি সেচ দফতরের আধিকারিকদের বলেছেন।
দুর্গাপুর ব্যারেজের বিকল্প রাস্তা পরিদর্শন করলেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া
