উচ্চ মাধ্যমিকে দশম লাউদোহার পানশিউলি হাই স্কুলের শ্রীপর্ণা মন্ডল

সংবাদদাতা,দুর্গাপুর,: – এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে দশম স্থান পেয়েছে সবাইকে চমকে দিয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের পানশিউলি হাই স্কুলের বিজ্ঞানের ছাত্রী শ্রীপর্ণা মণ্ডল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮। এবার মেধা তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে মোট ১০ জন। তাদেরই অন্যতম হল লাউদোহার পানশিউলি গ্রামের বাসিন্দা শ্রীপর্ণা। জানা গেছে,বিজ্ঞানের ছাত্রী শ্রীপর্ণা বরাবরই স্কুলে প্রথম হয়ে এসেছে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় সে জেলায় প্রথম হয়েছিল। মাত্র এক নম্বরের জন্য সে মেধা তালিকায় জায়গা পায়নি। হয়েছিল ১১ তম। কিন্তু,উচ্চ মাধ্যমিকে সে প্রথম দশের তালিকায় স্থান পাওয়ায় তার পরিবারের সঙ্গেই খুশি তার স্কুলের শিক্ষকরাও। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাধবচন্দ্র সাহা জানিয়েছেন,শ্রীপর্ণা প্রথম থেকেই মেধাবী। স্কুলে সে প্রথম হতো। মাধ্যমিকেও সে জেলায় প্রথম হয়েছিল। তাই আমরা আশা করেছিলাম উচ্চ মাধ্যমিকেও সে ভালো ফল করবে। মেধা তালিকায় সে জায়গা পাওয়ায় আমরাও গর্বিত। শ্রীপর্ণার বাবা সৌম্য মন্ডল জানান,তাদের এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে শ্রীপর্ণা ছোটো। ওর দাদা পুরুলিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বি টেক পড়ছে। শ্রীপর্ণাও জয়েন্ট ও নিট সহ অন্যান্য পরীক্ষাও দিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়ে ভালো ফল করবে আশা করেছিলেআম তবে মেধা তালিকায় দশম স্থানে থাকবে ভাবিনি। মেয়ের জন্য অবশ্যই আমরা গর্বিত। শ্রীপর্ণার ইচ্ছা ডাক্তার হওয়ার। সৌম্যবাবু একসময় ভারতীয় জীবনবিমায় এজেন্টের কাজ করতেন। কিন্তু লকডাইনের সময় সেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি চাষাবাদ করে সংসার চালান। তিনি জানান,মেয়ের স্বপ্ন পূরণে অবশ্যই তিনি চেষ্টা করে যাবেন।সঙ্গে এও বলেন মেয়ে তার নিজের ইচ্ছাতেই তার স্বপ্নপূরণ করতে পারবে বলেই তার বিশ্বাস। গ্রামের মেয়ে শ্রীপর্ণা উচ্চ মাধ্যমিকে দশম হয়েছে এই খবর জানতে পেরে তাদের বাড়িতে ভিড় করেছে পাড়া প্রতিবেশীরা। শ্রীপর্ণার সাফল্যে তারাও গর্বিত। অনেকেই শ্রীপর্ণাকে ফুলের তোড়া মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৯.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন পূর্ব বর্ধমানের রূপায়ন পাল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৭। দ্বিতীয় স্থানে কোচবিহারের তুষার দেবনাথ। প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬ (৯৯.২ শতাংশ)। ৪৯৫ (৯৯ শতাংশ) নম্বর পেয়ে এ বছর তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন আরামবাগের রাজর্ষি অধিকারী। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বাঁকুড়ার সৃজিতা ঘোষাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪ (৯৮.৮ শতাংশ)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *