সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ অভিষেক মুখোপাধ্যায় নামে এক যুবক নিজেকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ’র’-এর একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে সিটি সেন্টারের এক শিক্ষিকাকে রেজিস্ট্রি বিয়ে করে। অবশেষে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই শিক্ষিকা বিষয়টি পুলিশকে জানায় এবং পুলিশ কৌশলে ওই যুবককে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, যুবকটির বাড়ি হুগলির ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা। এক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে পরিচয় হয় অভিষেকের। নিজেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী বলে দাবি করেন। এই নকল পরিচয়ের আড়ালেই শিক্ষিকার সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে থাকেন অভিযুক্ত। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি,এমনকী শিক্ষিকার বাড়িতেও আসা যাওয়া শুরু করেন। শিক্ষিকাকে বিয়েরও প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু,যুবকের কথাবার্তা ও কাজকর্মে সন্দেহ হওয়ায় শিক্ষিকার মা-বাবা বিয়েতে রাজি হননি। তা সত্বেও ওই যুবকের সঙ্গে রেজিস্ট্রি বিয়ে করে ফেলেন শিক্ষিকা। কিন্তু,তারপরেও শিক্ষিকা জানতে পারেন তিনি প্রতারনার শিকার হয়েছেন। তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ জানতে পারে দুর্গাপুরে একটি হোটেলে উঠেছে ওই যুবক। সেখানে গিয়ে পুলিশ তাকে জেরা করতে থাকে। যুবকের কাছ থেকে সেনাবাহিনী,গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীর নথি ও পরিচয়পত্র দেখতে চায় পুলিশ। কিন্তু,অভিযুক্ত সেই সব নথি পুলিশকে দেখাতে পারেননি। পুলিশের দাবি,জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজের অপরাধ স্বীকার করেন ওই যুবক। তারপরেই অভিষেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে তদন্তের গতি আনতে চাইছে পুলিশ। এই নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেছেন, “হুগলির ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা এই যুবকের কাছে দেশের গোয়েন্দা এজেন্সির আলাদা আলাদা ফেক আই কার্ড পাওয়া গিয়েছে। তিনি কখনও সেনাবাহিনীর আধিকারিক,কখনও এনআইএ আধিকারিক,কখনও আবার র-এর আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এক মহিলাকে এই মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।” জানা গেছে, ধৃতের কাছ থেকে এয়ারগান,ল্যাপটপ,মোবাইল,জাল পরিচায়পত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সেনাকর্মীর ভুয়ো পরিচয় দিয়ে দুর্গাপুরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার যুবক
