কাজল মিত্র:- আসানসোলের SB গোরাই রোড—যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড মানে জীবনের মূল্য। সেই রাস্তাই আজ পরিণত হয়েছে প্রবল আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মৃত্যু-ফাঁদে। প্রতিদিনের যানজট এখন আর অসুবিধা নয়, এটি সরাসরি জীবন-ঝুঁকি। মঙ্গলবার দুপুরে সেই ‘মৃত্যুর সম্ভাবনা’ বাস্তবে দেখা গেল চোখের সামনে।দুপুর ঠিক তিনটে। বুধা মাঠ সংলগ্ন সেন্ট মেরি স্কুলের সামনে হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো রাস্তা। মিনিট কয়েকের মধ্যে গাড়ির লম্বা লাইন, হর্নের কর্কশ শব্দ, আর সেই ভিড়ের মাঝখানে একটি অ্যাম্বুলেন্স শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে থাকে। সাইরেন কাঁপিয়ে দিতে থাকে রাস্তা, কিন্তু গাড়ির চাপে তার আওয়াজ যেন ডুবে যায় এক অচল শহরের উদাসীনতায়।

কেউ রাস্তা ছাড়ছে না, কেউ এগোতেও পারছে না—আর অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে হয়তো এক জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছিল নীরবে। এ যেন সরাসরি মৃত্যুর কাউন্টডাউন, কিন্তু চারদিকে নৈরাশ্যের নিশ্চুপ সাড়া।পথচলতি এক ব্যক্তি বিষয়টি দেখে ছুটে ফোন করেন আসানসোল দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ডের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সঞ্জয় মণ্ডলকে। খবর পাওয়ামাত্রই ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিকরা পৌঁছে যান। কিন্তু ততক্ষণে ১৫ মিনিট পেরিয়ে গেছে—একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১৫ মিনিট মানে কী? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর নির্মম অপচয়, সাধারণ মানুষের ভাষায় সরাসরি মৃত্যুর সম্ভাবনা।আজ হয়তো কেউ মরেনি, কিন্তু আগামী দিনে?স্থানীয়দের ক্ষোভ বিস্ফোরণের মতো
“এই রাস্তায় সবসময় রোগী যায়, আবার সেখান থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। এই জ্যাম চলতে থাকলে মৃত্যু অনিবার্য—সময়ের অপচয়ে যে কোনও দিন বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।”প্রশাসন কি এমন গুরুতর পরিস্থিতি দেখেও নিশ্চুপ থাকবে?
জেলা হাসপাতালের প্রধান রাস্তায় যখন অ্যাম্বুলেন্সই এগোতে পারে না, তখন শহরের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে প্রতিদিন।SB গোরাই রোড আজ শুধু একটি জ্যামপয়েন্ট নয়—এটি আসানসোলের সবচেয়ে ভয়ানক, অনিশ্চিত, প্রাণঘাতী রাস্তায় পরিণত হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে—আগামী দিনে এর মূল্য দিতে হতে পারে আরও অনেক ‘অমার্জনীয়’ প্রাণ দিয়ে।
