কেলেজোড়া হাসপাতালেচিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে হাসপাতাল চত্বরেই মৃত্যু এক যুবকের

কাজল মিত্র:- চিকিৎসার গাফিলতিতে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে রবিবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়াল বারাবনির কেলেজোড়া গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বর।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারাবনি থানার পুলিশ।

হাসপাতালে ভর্তি করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু। আর সেই মৃত্যুকে ঘিরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবারের লোকজন ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বারাবনি থানার পানুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গৌরবাজার আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা মঙ্গল মুর্মু বয়স ৩৫। শনিবার রাত থেকেই প্রবল বমি ও পায়খানায় ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, রাতভর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় রবিবার সকালে তাঁকে দ্রুত কেলেজোড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে প্রাথমিক কিছু ওষুধ দেন। কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিচার করে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের কথায়, “ডাক্তারবাবু ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেন। আমরা ওঁকে নিয়ে বারান্দা থেকে নামছি, সেই সময়ই আচমকা লুটিয়ে পড়েন।” হাসপাতালের সামনেই মৃত্যু হয় যুবকের।
ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা হলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো যেত। যদিও পরিবারের তরফে এখনও সরাসরি কাউকে দায়ী না করে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তারপরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় জানান, পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আগে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসুক। তার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে এই অভিযোগ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *