কাজল মিত্র : সরকার বদল হলেও চরিত্রের বদল হলনা
পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত আধিকারিকরা ।যেই লঙ্কায় আসে সেই রাবণের ভূমিকা পালন করে ।তবে এবার ডবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য পরিবহণ দফতর।ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর (এমভিআই-এনটি) অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাজিমুল হক-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করে বিষয়টি তদন্তের জন্য অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)-র কাছে পাঠানো হয়েছে।

২৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে রাজ্য পরিবহণ দফতরের জারি করা পৃথক দুটি নির্দেশে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে জমা পড়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত চলাকালীন তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৭১ অনুযায়ী সাসপেনশন কার্যকর থাকবে এবং এই সময় তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স পাবেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার রামপুর চেকপোস্টকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই লরি চালক ও পরিবহণ ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বহু লরি চালকের অভিযোগ, চেকপোস্টে নথি পরীক্ষা ও যানবাহন ছাড়ার নামে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এতদিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশ্যে বড় কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এবার সরকারি নির্দেশে দুই আধিকারিকের সাসপেনশন সেই অভিযোগগুলিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।

পরিবহণ দফতর রামপুর চেকপোস্টে প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য নতুন মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।রামপুর চেকপোস্টে একসঙ্গে দুই আধিকারিকের সাসপেনশনের ঘটনায় পরিবহণ দফতর, লরি মালিক সংগঠন ও পরিবহণ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
