দেন্দুয়ায় মজুরি নিয়ে ফুঁসছেন শ্রমিকরা,২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এলকুইন্ট ও রামদূত প্লান্টে টানা বিক্ষোভ

কাজল মিত্র : সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া শিল্পাঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা। রাজ্য সরকারের ঘোষিত ৩৮৬ টাকা দৈনিক মজুরি কার্যকরের দাবিতে এলকুইন্ট স্টিল প্লান্টের গেটের সামনে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। সময় যত এগোচ্ছে কারখানা চত্বরে উত্তাপ তত বাড়ছে।শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে তাঁদের মাত্র ৩২৩ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি নির্দেশের চেয়ে অনেক কম। গত তিন মাস ধরে ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার দাবিতে তাঁরা সরব হলেও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। শেষমেশ গতকাল থেকে তাঁরা অনশনে বসে কারখানা চত্বরেই অবস্থান করছেন। তাঁদের সাফ কথা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরবেন না।

আন্দোলনকে ঘিরে কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিকবার বচসা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সালানপুর ব্লকের বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসেন, তবে সমাধান সূত্র বেরোয়নি। সালানপুর মণ্ডল-৪ এর সভাপতি চিন্ময় তেওয়ারী জানান, কর্তৃপক্ষ বলছে সালানপুর ব্লকের সব কারখানা মালিক সংগঠন একসঙ্গে বসে এই মজুরি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, তাই কিছুটা সময় প্রয়োজন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সময় দিতে রাজি হলেও ততদিন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন জারি থাকবে।

শ্রমিক নেতা অমর মাহাতো কারখানার ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ জেনেশুনেই সরকারি আদেশ অমান্য করছে, যা একপ্রকার সরকার বিরোধী আচরণ। “সরকার বেঁধে দেওয়া মজুরি দিতে অস্বীকার করার সাহস তারা কোথা থেকে পাচ্ছে?” প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেন, অনশনের জেরে কোনও শ্রমিক অসুস্থ হলে বা কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে কারখানা কর্তৃপক্ষকেই।এদিকে এলকুইন্টের এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে পাশের কারখানাতেও। একই দাবিতে রামদূত কারখানার শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ রেখে গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। দুটি কারখানায় একযোগে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়ানোয় গোটা দেন্দুয়া এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *