সালানপুর: : কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কথিত জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধানের দাবিতে ‘সারা ভারত কৃষক সভা’র সালানপুর ব্লক কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে এক কর্মসূচি পালিত হয়।এদিন ডাবর মোড় বাসস্ট্যান্ড থেকে সালানপুর ব্লক বিডিও অফিস পর্যন্ত পায়ে হেঁটে র্যালি বের করে বিক্ষোভ দেখান কৃষক সভার সদস্যরা। পরে বিডিও অফিসের সামনে ধর্না-বিক্ষোভ করে সালানপুর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন এবং গণ-ডেপুটেশন দেন।

সংগঠনের প্রতিনিধিরা ব্লক কার্যালয়ে পৌঁছে এলাকার সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের দাবি তোলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ১৫ দফা দাবিগুলি হল:
১. অন্নপূর্ণা যোজনাসহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ভেরিফিকেশনে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং আবেদন বাতিল হলে তার কারণ আবেদনকারীকে জানাতে হবে।
২. বালির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাজমিস্ত্রি ও নির্মাণ শ্রমিকদের জীবিকা বাঁচাতে ন্যায্য মূল্যে বালি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রকৃত গরিবদের আবাস যোজনার সুবিধা দিতে হবে, যোজনার টাকার পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং পুরনো সুবিধাভোগীদের দ্বিতীয় কিস্তি অবিলম্বে দিতে হবে।
৪. ব্লকের প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে হবে এবং পাইপলাইন বসানোর জন্য খোঁড়া রাস্তা মেরামত করতে হবে।
৫. সমস্ত গরিব পরিবারের RKSY রেশন কার্ড পরিবর্তন করে তাদের AAY/PHH/SPHH কার্ড দিতে হবে।
৬. SIR-এর নামে বৈধ নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না এবং ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে।

৭. এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত, নর্দমা পরিষ্কার এবং ঝোপঝাড় কাটার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. অবৈধ পাট্টা বাতিল করতে হবে এবং জমির বেআইনি রেকর্ডিং বন্ধ করতে হবে।
৯. ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি দিতে হবে এবং কৃষকদের বিকল্প চাষের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
১০. কৃষি ঋণ মকুব করতে হবে এবং মহাজন ও মাইক্রোফাইন্যান্সের শোষণ থেকে মুক্তি দিতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
১১. নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্রমবর্ধমান দাম অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
১২. হিন্দুস্তান কেবলস সহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার জমিতে নতুন শিল্প গড়তে হবে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে।
১৩. প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সরকারি সুবিধা, ৬০ বছর পর পেনশন এবং মাছ চাষের জন্য পুকুর সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৪. সমস্ত সরকারি শূন্যপদে অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে।
১৫. মনরেগার অধীনে ২০০ দিনের কাজ এবং ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, এই দাবিগুলির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
