সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : একসময় পূর্ব ভারতের শিল্পশক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুর্গাপুর। অথচ দীর্ঘ কয়েক দশকে একের পর এক বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন স্তব্ধ হওয়ায় সেই ঐতিহ্যে নেমেছে ভাটা। এমএএমসি, হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন (এইচএফসি), বিওজিএল-সহ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থান ও শিল্পনির্ভর অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে শিল্পোন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।

দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা মিশ্র, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল। পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগী, স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।
সূত্রের খবর, শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, নতুন উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প স্থাপনে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। জেলার শিল্পোন্নয়নের অন্তরায়গুলি চিহ্নিত করে সেগুলির দ্রুত সমাধানের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় শিল্পায়নের গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অব্যবহৃত শিল্পভূমি ও পরিকাঠামোর সদ্ব্যবহারের উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলে নতুন শিল্প-ইকোসিস্টেম তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।শিল্পমহলের একাংশের মতে, এমএএমসি, এইচএফসি, বিওজিএল-সহ একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দুর্গাপুরের শিল্পচিত্রে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে নতুন বিনিয়োগ টানতে প্রশাসন ও শিল্পমহলের এই ধরনের সমন্বয়মূলক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
