কাজল মিত্র : নিরসা মহকুমা এলাকায় অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারির কারবারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। বিসিসিএলের একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ আবাসন থেকে অবৈধ লটারির মিনি প্রিন্টিং প্রেসের হদিস মিলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছাপা অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারি টিকিট, প্রিন্টিং সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারি টিকিটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।নিরসা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) লিলেশ্বর মাহাতোর নেতৃত্বে চিরকুন্ডা থানার পুলিশ এই অভিযান চালায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিসিসিএলের ওই পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, সেখানে অবৈধভাবে লটারি টিকিট ছাপানো ও প্যাকেজিংয়ের কাজ চলছিল। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশি অভিযানের পর এলাকায় অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারি চক্রের সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিত্যক্ত বিসিসিএল কোয়ার্টারটি অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। মিনি প্রিন্টিং প্রেসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারি টিকিট তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো বলে পুলিশের সন্দেহ।অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ঝাড়খণ্ড লটারি টিকিটের পাশাপাশি প্রিন্টিং প্রেসের যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কোন কোন এলাকায় এই লটারি সরবরাহ করা হতো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চিরকুন্ডা ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ লটারি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে।বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লটারির প্রকৃত সংখ্যা, ব্যবহৃত প্রিন্টিং মেশিনের সংখ্যা এবং এই চক্রে জড়িত অন্যান্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের পর প্রকাশ করা হবে। অভিযানের সময় এসডিপিও লিলেশ্বর মাহাতোর সঙ্গে চিরকুন্ডা থানার ওসি আশুতোষ কুমার উপস্থিত ছিলেন।
