কাজল মিত্র: শুটিংকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে আসানসোল রাইফেল ক্লাবে বেশ কয়েকদিন আগেই জমকালো ভাবে শুরু হলো ৫৮তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ।যার ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হল শুক্রবার। পশ্চিমবঙ্গ রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় এবং আসানসোল রাইফেল ক্লাবের আতিথেয়তায় এই প্রতিযোগিতা বসেছে আসানসোলের ঐতিহ্যবাহী আসানসোল রাইফেল ক্লাব প্রাঙ্গণে।রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ক্ষুদে থেকে সিনিয়র — সব বয়সের প্রতিভাবান শুটারদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্লাব চত্বর। এয়ার পিস্তল, এয়ার রাইফেল, .22 রাইফেল ও পিস্তল সহ একাধিক বিভাগে প্রায় ৪০-র বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি।
একই সাথে ফাইনাল খেলাটি তিনি উপস্থিত ছিলেন তাছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখার্জী, বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল রাইফেল ক্লাবের কর্তৃপক্ষ, প্রশিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠকরা।এদিন প্রধান অতিথিরা বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।এবং কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি জানান, “আসানসোলের মাটিতে রাজ্য স্তরের এত বড় শুটিং প্রতিযোগিতা হওয়া আমাদের কাছে গর্বের। এই ধরনের প্রতিযোগিতা থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের শুটার উঠে আসবে। রাজ্য সরকার খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।”জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখার্জী তরুণ শুটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শৃঙ্খলা, একাগ্রতা আর পরিশ্রম — শুটিং-এর এই তিনটি গুণই একজন মানুষকে সফল করে। তোমরা রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করো, আমরা পাশে আছি।”বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় বলেন, জেলায় ক্রীড়ার প্রসারে আরও বেশি করে ব্লক স্তরে প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রয়োজন। জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য আয়োজকদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “খেলাই পারে যুব সমাজকে নেশা থেকে দূরে রেখে দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে।”

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা পারফর্ম করা শুটাররা জাতীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। রবিবার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই রাজ্য প্রতিযোগিতা।উদ্বোধনের দিন থেকেই গ্যালারিতে দর্শকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আসানসোল রাইফেল ক্লাবের এই আয়োজনকে ঘিরে গোটা শিল্পাঞ্চলে খেলাপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা দেখা গেছে।
