সালানপুর, কাজল মিত্র: মাইথন বাঁধের উপর ডিভিসির ১২০০ কোটি টাকার ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ফের অচলাবস্থা। ডোমদহা, কালিপাথর, সিধাবাড়ি,লাধনা, বৃন্দাবনী, বাথানবাড়ি সহ ১২টি গ্রামের বাস্তুহারা পরিবারের একটাই দাবি – আগে পুরনো প্রতিশ্রুতি পূরণ করো, তারপর নতুন প্রকল্প।এই নিয়ে শুক্রবার রামচন্দ্রপুর কমিউনিটি হলে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। একদিকে ছিলেন ডিভিসির ডিজিএম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সুখময় নায়ক ডিজিএম
শৈলেন্দ্র কুমার সিএসআর হেড সালানপুর থানা ইনচার্জ বিশ্বজিৎ মন্ডল , কল্যানেশ্বরী ফাঁড়ি ইনচার্জ পার্থ সরকার ,সালানপুর বিডিও দপ্তরের প্রতিনিধি, সহ অন্যান্য আধিকারিকরা, অন্যদিকে দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, যখন মাইথন বাঁধ তৈরি হয়, তখন তাঁদের ভিটেমাটি, চাষের জমি সব জলের তলায় চলে যায়। তখন ডিভিসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল – সবাইকে চাকরি দেওয়া হবে, স্কুল হবে, পানীয় জল, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। কিন্তু ৭০ বছর পরেও কিছুই মেলেনি।একজন বলেন, “আমরা সবাই উদ্বাস্তু। আমাদের জমির উপর বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে, আর আমরা ৭ টাকা ইউনিট দরে বিদ্যুৎ কিনছি। মাসে ৭০০, ৮০০, ১০০০ টাকা বিল আসছে। সামনে ১০ টাকা, ১৫ টাকা ইউনিট হবে। আমরা গরিব মানুষ, কোথা থেকে দেব? আমাদের দাবি, বাঁধের চারপাশের গ্রামগুলোকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে আর গ্রামের শিক্ষিত ছেলেদের চাকরি দিতে হবে।”

বাসুদেব মাহাতো জানান “গ্রামের মানুষ এককাট্টা হয়ে বলেছে, ফ্রি বিজলি না দিলে সোলার প্ল্যান্ট হতে দেব না। ২০১২ সালে ডিসি সাহেব বলেছিলেন জমি ফেরত দেওয়া হবে, আজও দেয়নি। জান দিয়ে দেব, তবুও বিজলি আর চাকরি না পেলে প্যানেল বসাতে দেব না।”এ বিষয়ে ডিভিসির ডিজিএম সুখময় নায়ক জানান, গ্রামবাসীদের সব দাবি লিখে নেওয়া হয়েছে।বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফ্রি ইলেকট্রিসিটি সারা ভারতে কোথাও দেওয়া হয় না। এটা সরকারের পলিসির ব্যাপার। সরকার যদি নীতি তৈরি করে নির্দেশ দেয়, তবেই ডিভিসি ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটা আমাদের হাতে নেই।”তবে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান সিএসআর ফান্ড থেকে গ্রামের রাস্তা, আলো, পানীয় জল, কমিউনিটি হলের কাজ করা হবে।তাছাড়া এখন মোবাইল হেলথ ভ্যান ২টি গ্রামে যায়, সেটা বাড়িয়ে ৩-৪টি গ্রামে করা হবে।লেফট ব্যাঙ্কের স্কুলটি সংস্কার করা হচ্ছে।চাকরির বিষয়ে তিনি বলেন, “স্থায়ী চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এই প্রজেক্টের ঠিকাদার সংস্থা এল অ্যান্ড টি পাওয়ারের মাধ্যমে যত অদক্ষ শ্রমিক লাগবে, সব স্থানীয় গ্রাম থেকেই নেওয়া হবে। আর যাদের আইটিআই, ডিপ্লোমা বা সোলার কাজের যোগ্যতা আছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “এটা ভারত সরকারের প্রজেক্ট, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশ এসেছে।এটা বাংলার গর্ব। এখানে কোনও প্রজেক্ট নেই, সেখানে একটা নতুন প্রজেক্ট হচ্ছে। আমরা চাই গ্রামবাসীরা সহযোগিতা করুক।”
বৈঠকের ফল:
দুই পক্ষের বৈঠকেও কোনও সমাধান বের হয়নি। ডিজিএম নিজেই স্বীকার করেন, “এখনও পর্যন্ত বৈঠক সফল হয়নি। দরকার হলে আমরা আবার বসব।”ফলে ২৩৪ মেগাওয়াটের এই ভাসমান সৌর প্রকল্প, যা রাজ্যের মধ্যে বৃহত্তম হতে চলেছে, তার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। আপাতত কাজ বন্ধ রেখে ফের আলোচনার পথেই হাঁটছে প্রশাসন।
