নিঃ প্রতিনিধি, অন্ডাল : জামুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং কে ভোট দিন, কিন্তু হরেরাম কে আমি অনুরোধ করবো তোমার ছেলে যেন লাল বাতি গাড়ি ব্যবহার না করে , আমি সতর্ক করে গেলাম– ভরা জনসভা থেকে তৃণমূল প্রার্থীকে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত জামুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল মনোনীত প্রার্থী হরেরাম সিং, যার ছেলে প্রেম পাল সিং। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুবার বিতর্কে নাম জড়িয়েছে এই প্রেম পাল সিংয়ের। কখনো বাজারের মধ্যেখানে হুটার বাজিয়ে পরিবার নিয়ে বাজার ঘোরা, কখনো আবার একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ানো, কখনো আবার তার মুখ থেকে উঠে এসেছে মন্ত্রী আমি বানাই এমনও মন্তব্য, তাছাড়াও বোর্ড লাগানো গাড়ি ব্যবহার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল , আর বিধায়ক পুত্রের এই কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল এলাকার সাধারণ মানুষজন থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলিও। এ নিয়ে বহুবার প্রতিবাদও হয়েছে, তার পাশাপাশি সংবাদ শিরোনামেও জায়গা করে নিয়েছে বিধায়ক পুত্রের এমন কর্মকাণ্ড। তারপরও কমেনি দম্ভ।

তাই এবার রানীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী কালো বরণ মণ্ডলের সমর্থনে খান্দরা মাঠের ভরা জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং কে সতর্কবার্তা দিয়ে গেলেন , ছেলে যেন লাল বাতি গাড়ি তে আর না ঘোরে।ভরা জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সেই সময় কিছুটা হলেও চোখে মুখে ইতস্ততার ছাপ লক্ষ্য করা যায় হরেরাম সিং।পরে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা হরেরাম কে প্রশ্ন করলে , কোনরকম কোন সদুত্তর দেননি তিনি, তবে তার ছেলে প্রেম পাল সিং জানাই, দিদিকে আমি মায়ের মতন শ্রদ্ধা করি, দিদি যা আদেশ দিয়েছেন সেটা আমি মেনে চলবো। আগামী দিনে কোন বোর্ড লাগানো বা লাল-নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরবো না।জনসভার মঞ্চ থেকে জামুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিং এর ছেলেকে নিয়ে করা তৃণমূল নেত্রীর এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জামুরিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টির মনোনীত প্রার্থী ডঃ বিজন মুখার্জি জানান, জামুরিয়া আমাদের শান্ত এলাকা, এখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তারপরও যখন মাননীয়া বিধায়ক পুত্রকে নিয়ে ভরা মঞ্চ থেকে এমন মন্তব্য করলেন তখন নিশ্চয়ই মেনে নিতে হবে যে বিগত দিনগুলিতে হরেরাম সিংয়ের পুত্রকে নিয়ে ওঠা সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলগুলির যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ সত্য এবং সেই অভিযোগেই শেষ পর্যন্ত সীলমোহর দিলেন মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বর্তমানে এই ঘটনায় এখন শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
