স্বাধীনতা দিবসেই ডাবর কোলিয়ারিতে কাজ বন্ধ, শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল সালানপুরে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাজল মিত্র সালানপুর : স্বাধীনতা দিবসের দিনই শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল সালানপুর থানা এলাকার ইসিএল-এর সালানপুর ডাবর কোলিয়ারি। রবিবার এবং সরকারি ছুটি বাতিলের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল 6টা থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে সামিল হন কোলিয়ারির সমস্ত শ্রমিক। বিক্ষোভের জেরে কোলিয়ারির সমস্ত কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।শ্রমিকদের অভিযোগ, কোলিয়ারিতে পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও ম্যানেজমেন্ট “ষড়যন্ত্র করে” রবিবার এবং জাতীয় ছুটিগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। ১৫ ই আগস্টের মতো জাতীয় ছুটির দিনেও ছুটির টাকা না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কেন এই বিক্ষোভ?

  1. ছুটি বাতিলের নোটিশ: প্রত্যেক বছর রবিবার এবং স্বাধীনতা দিবসে ছুটি থাকলেও গতকাল ম্যানেজমেন্ট নোটিশ দিয়ে সেই ছুটি বন্ধ করে দিয়েছে। বলা হয়েছে “এমারজেন্সি বেসিসে” কিছু কাজ চলবে।
  2. এমারজেন্সির নামে বৈষম্য: শ্রমিকদের অভিযোগ, এমারজেন্সি বলতে শুধু ডোমেস্টিক পাম্প, ইলেক্ট্রিফিকেশন ও ডিসপেনসারি চালু থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে ম্যানেজমেন্টের “চামচাগিরি” করে এমন কিছু লোককে ডোজার, লোডিং-এর কাজে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। অথচ যারা সরাসরি উৎপাদনের সাথে যুক্ত তাদের হাজিরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
  3. বেসরকারিকরণের অভিযোগ: শ্রমিক নেতাদের দাবি, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই কোলিয়ারিগুলিকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সালানপুর এরিয়াকেও বন্ধ করার পরিকল্পনা চলছে, আর তারই অংশ হিসেবে ডাবর কোলিয়ারিকে বন্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ম্যানেজারকে ঘেরাও, লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভকারীরা এদিন কোলিয়ারির ম্যানেজার এবং PM-কে ঘেরাও করে রাখেন। CITU এবং AITUC – এই দুটি সংগঠনের ব্যানারে সকাল থেকে বিক্ষোভ চলছে।এ বিষয়ে CMS AITUC-র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজেশ কুমার সিং বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের দিন শ্রমিকদের উপর কুঠারাঘাত করা হয়েছে। উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে ছুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ না উপরতলার আধিকারিকরা এসে সমস্যার সমাধান করছেন, ততক্ষণ এই বিক্ষোভ এবং কাজ বন্ধ লাগাতার চলবে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজমেন্ট উপরতলায় খবর পাঠিয়েছে বলে জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনও আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসেননি।ডাবর কোলিয়ারির শ্রমিক এবং CITU-এর প্রতিনিধি দিলীপ কোড়া বলেন, “ম্যানেজমেন্ট কথা না শুনলে এই আন্দোলনকে আমরা আরও দীর্ঘতর করব। কোলিয়ারি বন্ধের বিরুদ্ধে এবং এলাকার অর্থনীতি ও শ্রমিকদের স্বার্থে আমরা সবাই এক হয়েছি।”অন্যদিকে, এই গোটা বিষয় নিয়ে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ বা উচ্চপদস্থ কোনও আধিকারিক এখনও পর্যন্ত কোনও বক্তব্য দিতে চাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *