জমি বিবাদে আটকে ‘মা কল্যাণেশ্বরী অতিথি নিবাস’-এর ভবিষ্যৎ জমি নিজের দাবি করে আদালতে গেলেন স্থানীয় বাসিন্দা, সোমবার সরজমিনে তদন্ত

কাজল মিত্র :- মাইথনে আসা তীর্থযাত্রীদের জন্য স্বল্পমূল্যে থাকার সুবিধা দিতে আসানসোল পৌরনিগম গড়ে তুলেছে ‘মা কল্যাণেশ্বরী অতিথি নিবাস’। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই এই আবাসন ঘিরে তৈরি হয়েছে জমি নিয়ে বড়সড় বিতর্ক।১২৪১ নাকি ১/১২৪১ – সীমানা নিয়েই আদালতে মামলা, সোমবার হল সরজমিন তদন্ত
দেবীপুর মৌজার বাসিন্দা রাজকুমার প্রসাদ নুনিয়া জানান, ১২৪১ নম্বর দাগে তাঁর ১ বিঘা ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। অভিযোগ, সেই জমিতেই পৌরনিগম অতিথি নিবাস বানিয়েছে।আগে আদালত তাঁর পক্ষে দখলের নির্দেশ দিলেও সম্পূর্ণ দখল তিনি বুঝে পাননি। তাই ফের আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “অতিথি নিবাস যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সেটা ১২৪১ দাগ। আর ওটা আমারই জমি।”

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার ঘটনাস্থলে যায় আসানসোল আদালতের একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন নাজির, BLRO অফিসের আধিকারিক ও আইনজীবীরা। নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে ছিল কুলটি থানা ও কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির পুলিশ।দলটি জমির ম্যাপ ও অন্যান্য কাগজপত্র মিলিয়ে দেখে জমি চিহ্নিতকরণের কাজ করে। তাঁদের তৈরি প্রাথমিক রিপোর্ট শিগগিরই আদালতে জমা পড়বে।তবে পৌরনিগমের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাদের দাবি, অতিথি নিবাস ১২৪১ দাগে নয়, তৈরি হয়েছে ১/১২৪১ নম্বর প্লটে ।পৌরনিগমের আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, “মামলাটি এখন সিভিল কোর্টে চলছে। মূল বিষয় হল ১২৪১ ও ১/১২৪১-এর সীমানা। আদালত আগে ১২৪১ নিয়ে রায় দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের অতিথি নিবাস অন্য দাগে। আদালতের লোকেরা রিপোর্ট দেওয়ার পরই সব স্পষ্ট হবে। চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

PPP মডেলে তৈরি এই অতিথি নিবাসের দায়িত্বে থাকা রামচন্দ্র সাউ জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর পৌরনিগমই তাঁকে হোটেল চালানোর দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার কাছে এটা ১/১২৪১ দাগের সরকারি প্রকল্প। জমি নিয়ে বিবাদ পৌরনিগম ও দাবিদারের মধ্যে। আদালত যা বলবে সেটাই চূড়ান্ত।”আপাতত আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুই পক্ষই। সেই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে অতিথি নিবাসটির ভবিষ্যৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *